মাগুরা প্রতিদিন : মাগুরায় রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল মল্লিকের ওপর হামলা চালিয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি গ্রেপ্তার অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুহুল মল্লিক দুটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গত বছরের ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি এবং মহম্মদপুরে নিহত আহাদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
রুহুল মল্লিক মাগুরা পৌর এলাকার বরুণাতৈল গ্রামের আলি রেজা মল্লিকের ছেলে।
শুক্রবার দুপুরে গোপনে তিনি পারনান্দুয়ালী এলাকার নতুন বাড়িতে স্ত্রী শাহানাজ খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগবিরোধী একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তারা পেট্রোল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর চালায়।
এ সময় বাড়ি থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুহুল মল্লিককে আটক করার উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই বিক্ষুব্ধ লোকজন বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করে। বেধড়ক পিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, বিক্ষুব্ধদের হাত থেকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় রুহুল মল্লিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তিনি জানান, তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।